ভূমিকম্পে কারখানার চিমনি-শপিংমলে ধস, আহত-নিখোঁজ অনেকে

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক :জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কিউশু দ্বীপের কুমামোতো প্রশাসনিক অঞ্চলে ৭.১ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সংগঠিত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। অন্তত তিন লাখ বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকাজে দ্রুত সহায়তার জন্য ইতোমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে শত শত সেনা সদস্য। ক্রমাগত আফটারশকের কারণে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।

ভূমিকম্পের তীব্রতায় বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে প্রায় ৪৮ হাজার ঘরবাড়ি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বুলেট ট্রেনসহ সব ধরনের রেল পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে এবং কুমামোতো বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ থাকায় বিমান চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেবা সচল রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।

ভূমিকম্পের পরপরই একটি শপিং মলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় ভবনটির একপাশ ধসে পড়ে প্রাঙ্গণজুড়ে ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায়। সেখানে ২০ থেকে ৩০ জন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল বেঁচে থাকা মানুষদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ধসে পড়া ভবনের ভেতরে বেশ কয়েকজন মানুষ আটকা পড়েছেন এবং কেউ কেউ মারা গিয়ে থাকতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে কারণ হিসেবে একটি সম্ভাব্য গ্যাস বিস্ফোরণের বিষয় তদন্ত করে দেখছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজের একটি কারখানার চিমনি ধসে পড়ার ঘটনাতেও বেশ কয়েকজন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন।

টোকিওতে নিজের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মূল ক্ষয়ক্ষতি এখনো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তিনি নাগরিকদের সতর্ক থেকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানান। ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীরা ভবন ধসে পড়া ও অগ্নিকাণ্ডের মতো একাধিক জরুরি ঘটনায় সাড়া দিচ্ছেন। স্থানীয় দুটি হাসপাতালে এ পর্যন্ত শতাধিক আহত মানুষকে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে টিএসএমসি, সোনি ও ফুজফিল্মের মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের কারখানার শ্রমিকদের দ্রুত সরিয়ে নেয়। তবে চিপমেকার প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি পরে জানিয়েছে যে তাদের কারখানাগুলো অক্ষত রয়েছে এবং ধীরে ধীরে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে। অন্যদিকে টোকিও ইলেকট্রন এবং হোন্ডা তাদের স্থানীয় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করেছে।

জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর এলাকাটিতে ইতোমধ্যে শতাধিক মৃদু আফটারশক অনুভূত হয়েছে। আগামী অন্তত এক সপ্তাহ ধরে আরও শক্তিশালী কম্পন এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের মতো ঝুঁকি থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা। ভূকম্পনের সাথে সাথে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবে আশার কথা হলো, নিকটস্থ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

কুমামোতো অঞ্চলটি দশ বছর আগেও একটি ভয়াবহ ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ধসে পড়েছিল, যাতে পৌনে তিনশর বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। নতুন করে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে বুধবার তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে রাত নামার সাথে সাথে তীব্র তাপদাহ ও হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা প্রকাশ করে বাসিন্দাদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» পার্লামেন্টই হবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু, বিরোধীদলকে সম্পাদকদের পরামর্শ

» চবিকে ১০টি নতুন বাস উপহার দিচ্ছে জসিম উদ্দিন ফাউন্ডেশন

» রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব হলেন ইউনুস আলী

» তারেক রহমান আমাদের কাজী নজরুল: চিফ হুইপ

» রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ

» মেয়েদের সার্বজনীন উপবৃত্তি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

» রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌদির রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

» প্রথম সফরে ঠাকুরগাঁও যাবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

» স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে এনসিপি: সারজিস আলম

» রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমাবেশে অনুমতি না দেওয়ার প্রতিবাদ এনসিপির

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ভূমিকম্পে কারখানার চিমনি-শপিংমলে ধস, আহত-নিখোঁজ অনেকে

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক :জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কিউশু দ্বীপের কুমামোতো প্রশাসনিক অঞ্চলে ৭.১ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সংগঠিত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। অন্তত তিন লাখ বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকাজে দ্রুত সহায়তার জন্য ইতোমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে শত শত সেনা সদস্য। ক্রমাগত আফটারশকের কারণে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।

ভূমিকম্পের তীব্রতায় বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে প্রায় ৪৮ হাজার ঘরবাড়ি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বুলেট ট্রেনসহ সব ধরনের রেল পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে এবং কুমামোতো বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ থাকায় বিমান চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেবা সচল রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।

ভূমিকম্পের পরপরই একটি শপিং মলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় ভবনটির একপাশ ধসে পড়ে প্রাঙ্গণজুড়ে ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায়। সেখানে ২০ থেকে ৩০ জন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল বেঁচে থাকা মানুষদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ধসে পড়া ভবনের ভেতরে বেশ কয়েকজন মানুষ আটকা পড়েছেন এবং কেউ কেউ মারা গিয়ে থাকতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে কারণ হিসেবে একটি সম্ভাব্য গ্যাস বিস্ফোরণের বিষয় তদন্ত করে দেখছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজের একটি কারখানার চিমনি ধসে পড়ার ঘটনাতেও বেশ কয়েকজন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন।

টোকিওতে নিজের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মূল ক্ষয়ক্ষতি এখনো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তিনি নাগরিকদের সতর্ক থেকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানান। ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীরা ভবন ধসে পড়া ও অগ্নিকাণ্ডের মতো একাধিক জরুরি ঘটনায় সাড়া দিচ্ছেন। স্থানীয় দুটি হাসপাতালে এ পর্যন্ত শতাধিক আহত মানুষকে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে টিএসএমসি, সোনি ও ফুজফিল্মের মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের কারখানার শ্রমিকদের দ্রুত সরিয়ে নেয়। তবে চিপমেকার প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি পরে জানিয়েছে যে তাদের কারখানাগুলো অক্ষত রয়েছে এবং ধীরে ধীরে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে। অন্যদিকে টোকিও ইলেকট্রন এবং হোন্ডা তাদের স্থানীয় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করেছে।

জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর এলাকাটিতে ইতোমধ্যে শতাধিক মৃদু আফটারশক অনুভূত হয়েছে। আগামী অন্তত এক সপ্তাহ ধরে আরও শক্তিশালী কম্পন এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের মতো ঝুঁকি থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা। ভূকম্পনের সাথে সাথে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবে আশার কথা হলো, নিকটস্থ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

কুমামোতো অঞ্চলটি দশ বছর আগেও একটি ভয়াবহ ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ধসে পড়েছিল, যাতে পৌনে তিনশর বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। নতুন করে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে বুধবার তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে রাত নামার সাথে সাথে তীব্র তাপদাহ ও হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা প্রকাশ করে বাসিন্দাদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com